দীর্ঘ ৩৫ বছর পর আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, দীর্ঘ বিরতির পর এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের আয়োজন করতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। ২৪শে জুলাই সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
এর আগে ৬ই আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ১৩ই আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ই আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ই আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়। একাধিক প্রার্থী থাকায় আজ ২০শে আগস্ট সংসদ ভবনে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সেখানেই গণনা সম্পন্ন হবে। সংসদ সদস্যদের ভোট প্রদানের সময় সংসদ সচিবালয়ের সরবরাহ করা পরিচয়পত্র সাথে রাখতে হবে। ভোট প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এটি গোপন ব্যালটের পরিবর্তে প্রকাশ্য ভোট হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে। ব্যালটে ভোটারের নাম ও প্রার্থীর নাম থাকবে, যা পর্যবেক্ষণযোগ্য হবে। তবে ফলাফল ঘোষণার সময় কোন সংসদ সদস্য কাকে ভোট দিয়েছেন, তা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে না। এছাড়া প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট প্রদানের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের সময় সংসদ অধিবেশন কক্ষে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। কোনো প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য বা প্রস্তাব দেওয়ার সুযোগও থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের ৯ দফা নির্দেশনায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার ক্ষেত্রে আইনে কোনো বাধা নেই। ভোট প্রদানের সময় কোনো রাজনৈতিক জটিলতা দেখা দিলে চিফ হুইপ ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
গতকাল বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপি’র সংসদীয় দলের সভা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। সংসদীয় দলের এই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন। এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলের প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অপর প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য এই নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ই অক্টোবর জাতীয় সংসদ কক্ষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে আব্দুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন।



























