গাজায় ২০২৪ সালে পাঁচ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি শিশু হিন্দ রজব ও তার পরিবারের ছয় সদস্যকে বহনকারী গাড়িতে সেনাদের গুলি চালানোর কথা অবশেষে স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দীর্ঘ আড়াই বছর পর বুধবার এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, এই ঘটনার তদন্তের জন্য মিলিটারি পুলিশের মাধ্যমে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে দীর্ঘদিন ওই এলাকায় সেনা উপস্থিতির কথা অস্বীকার করে আসলেও স্বাধীন তদন্তে ইসরায়েলি ট্যাংকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়।
ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি, যখন গাজা সিটিতে ইসরায়েলি আক্রমণ থেকে বাঁচতে পরিবার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় হিন্দ রজবদের গাড়িটি হামলার মুখে পড়ে। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের সাথে ফোনে বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল অবুঝ শিশু হিন্দ। তাকে উদ্ধারের জন্য পাঠানো অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালানো হয়, যাতে দুজন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন। হামলার পর সেনারা বুলডোজার দিয়ে গাড়ি ও মরদেহগুলো গণকবরে মাটিচাপা দিয়েছিল।
হিন্দ রজবের ঘটনার পাশাপাশি দক্ষিণ গাজার রাফায় ২০২৫ সালের মার্চে ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী ও ত্রাণকর্মীকে হত্যার ঘটনায়ও ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের গাড়িবহরে বিমান হামলায় বিদেশি ত্রাণকর্মী নিহতের ঘটনায় কাউকে শাস্তির আওতায় না আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বরাবরই অভিযোগ করে আসছে যে, ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনী তদন্তের ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত দোষীদের শাস্তির নজির খুবই কম।



























