দুবাইয়ে নারী এশিয়া কাপের ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে মাত্র ৫৫ রানে গুটিয়ে দিয়ে ৭ উইকেটের সহজ জয় পেয়েছে ভারত। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে পাকিস্তানের দেওয়া ৫৬ রানের লক্ষ্য মাত্র ৮.৪ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায় ভারতীয় মেয়েরা। এই দাপুটে জয়ের মাধ্যমে গ্রুপ 'এ'-তে টানা তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ করল ভারত।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। শুরুটা মন্দ ছিল না তাদের। ওপেনিং জুটিতে মুনিবা আলী ও শাওয়াল জুলফিকার যোগ করেন ২৭ রান। ম্যাচের শুরুতে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যাওয়া মুনিবাকে পঞ্চম ওভারে বোল্ড করে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন শেফালি ভার্মা। ১৫ বলে ১৩ রান করে মুনিবা বিদায় নেওয়ার পরই ধস নামে পাকিস্তানের ইনিংসে।
মাত্র তিন বল পর শ্রী চারণির বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন গুল ফিরোজা। একই ওভারে চারণির বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন দারুণ খেলতে থাকা শাওয়াল জুলফিকারও (১৪ বলে ১৪ রান)। এরপর আয়েশা জাফর সোজা মিড-অনে হারমানপ্রীত কৌরের হাতে ক্যাচ দিলে ৩২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে পাকিস্তান।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান। সাদাফ শামাসকে ৩ রানে বোল্ড করেন প্রেমা রাওয়াত। অধিনায়ক ফাতিমা সানা দীপ্তি শর্মার বলে এলবিডব্লিউ হলে পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়ায় ৩৫ রানে ৬ উইকেট। আইমান ফাতিমা ও উম্মে হানি মিলে ১০ রানের একটি জুটি গড়লেও তা বিপর্যয় এড়াতে পারেনি। আইমান ৫ রান করে রানআউট হন এবং উম্মে হানি রাওয়াতের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর রাওয়াত শূন্য রানে নাসরা সান্ধুকে সাজঘরে পাঠান এবং দীপ্তি শর্মা তুবা হাসানকে স্টাম্পড করে পাকিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন। ১৮.১ ওভারে মাত্র ৫৫ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান, যা নারী টি-টোয়েন্টিতে তাদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। ভারতের পক্ষে চারণি ও রাওয়াত ৩টি করে এবং দীপ্তি ২টি উইকেট নেন।
সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলেন শেফালি ভার্মা। ইনিংসের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকান তিনি এবং পরের বলে এক রান নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৩০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। মাত্র ২২ বছর ২২০ দিন বয়সে এই কীর্তি গড়ে কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়েন শেফালি। তবে দ্বিতীয় ওভারে পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা জোড়া আঘাত হানেন। শেফালিকে (ক্যাচ অ্যান্ড বোল্ড) এবং প্রাতিকা রাওয়ালকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান তিনি। এরপর দুর্দান্ত ফর্মে থাকা স্মৃতি মান্ধনাকেও ৯ রানে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ফাতিমা।
৩৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ভারতের হাল ধরেন অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শর্মা। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সিঙ্গেলস ও বাউন্ডারির মাধ্যমে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান তারা। নিজের ১৫০তম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা হারমানপ্রীত নাসরা সান্ধুর বলে ছক্কা মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন। হারমানপ্রীত ১৮ এবং দীপ্তি ১২ রানে অপরাজিত থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে ফাতিমা সানা ১৭ রানে ৩টি উইকেট নেন।






























