বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি ও প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত খরচ মেটাতে গ্রাহকদের জন্য একটি নতুন ডিজিটাল ঋণ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। 'ই-পেমেন্ট ক্রেডিট' নামের এই ব্যবস্থার আওতায় বিনা সুদে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদি ঋণ পাওয়া যাবে। আগামী রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) এই সেবাটি চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঋণের অর্থ দিয়ে গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও চিকিৎসার খরচ মেটাতে পারবেন। এছাড়া ভ্রমণ ব্যয়, সরকারি কর ও সেবার ফি, ঋণ বা আমানতের কিস্তি এবং বিমার প্রিমিয়াম পরিশোধের ক্ষেত্রেও এই ডিজিটাল ঋণ ব্যবহার করা যাবে। তবে এই ঋণের অর্থ কোনোভাবেই নগদ টাকা হিসেবে উত্তোলন করা যাবে না। এমনকি গ্রাহকের নিজস্ব ব্যাংক হিসাব কিংবা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) ওয়ালেটেও এটি স্থানান্তর করা যাবে না। ঋণের অর্থ সরাসরি ডিজিটাল পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিলদাতা বা সেবাদাতার কাছে চলে যাবে।
গ্রাহকদের এই ঋণ পরিশোধের জন্য ৭, ১৫ এবং ৩০ দিনের তিনটি নির্ধারিত মেয়াদ দেওয়া হবে। ঋণে কোনো সুদ না থাকলেও ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ সেবা ফি বা সার্ভিস চার্জ গ্রহণ করবে। ৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা সেবা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সেবা ফি হবে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৩০ টাকা।
সময়মতো ঋণ পরিশোধ করলে গ্রাহককে অতিরিক্ত কোনো সুদ বা মেয়াদপূর্ব পরিশোধের ফি দিতে হবে না। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হলে জরিমানা দিতে হতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট ঋণের দৈনিক সেবা ফির চেয়ে বেশি হবে না। প্রাথমিকভাবে ব্যাংকগুলো অন্তত ছয় মাস পরীক্ষামূলক বা পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই সুবিধা পরিচালনা করবে। পাইলট কার্যক্রমের সফলতার ওপর ভিত্তি করে পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে এটি চালু করা হবে।
ঋণ বিতরণ থেকে শুরু করে নিবন্ধন, অনুমোদন এবং ফেরত নেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে। লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এককালীন পাসওয়ার্ড (ওটিপি) বা বহুমাত্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। এই সেবা দিতে ব্যাংকগুলো এমএফএস, পেমেন্ট সেবাদাতা এবং ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে ডিজিটাল পেমেন্টের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সহজেই ছোট অঙ্কের ঋণ সুবিধা পাবেন।
































