নেপালে প্রলয়ঙ্করী বন্যার ১০ দিন পর দুটি পৃথক অভিযানে এক নারী ও এক জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া এক শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে এ পর্যন্ত মোট তিনজন শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হলো। এর আগে গত শুক্রবার ত্রিশূলী ৩এ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির সামরিক বাহিনী ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্যোগ বিশেষজ্ঞদের একটি যৌথ দল ৭৩৮ ফুট দীর্ঘ একটি সুড়ঙ্গ থেকে ওই পুরুষ শ্রমিককে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি-র প্রকাশ করা একটি ছবিতে দেখা গেছে, দুই উদ্ধারকারী তাকে সুড়ঙ্গ থেকে বের করে নিয়ে আসছেন।
সিসিটিভি ওই ব্যক্তির একটি অডিও প্রকাশ করেছে, যেখানে তাকে এক কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে শোনা যায়। তিনি জানান, যখনই তিনি উদ্ধারকারীদের আলোর ঝলকানি দেখতেন, তখনই চিৎকার করে সাহায্য চাইতেন, কিন্তু উদ্ধারকারীরা তার আওয়াজ শুনতে পেত না। তিনি বলেন, "আজ যখন তারা আমাকে উদ্ধার করল এবং আমার চোখের সামনে আলো ফেলল, আমি নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না।"
বর্তমানে নেপালের ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব এলাকায় প্রায় ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন এবং বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আনুমানিক ৫০০ জন আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের খোঁজে ক্ষতিগ্রস্ত সুড়ঙ্গ ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এদিকে, বন্যাবিধ্বস্ত নুয়াকোট শহরে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করেছে নেপালি সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র শনিবার জানান, তাকে আকাশপথে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নেপাল সেনাবাহিনীর প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, কর্দমাক্ত অবস্থায় থাকা ওই নারীকে উদ্ধারের পর প্রথমে বোতলজাত পানি দেওয়া হয় এবং পরে একটি ধূসর কম্বল জড়িয়ে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ আগস্ট মূলত হিমবাহ ধসের কারণে সৃষ্ট এই ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১,৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এখনো ৫,০০০-এরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।































