গাজা সিটিতে এক মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে, যেখানে এক পরিবারের ১১২ জন সদস্যের দেহাবশেষ গণদাফন করা হয়েছে। ফিলিস্তিনি পতাকায় মোড়ানো মৃতদেহগুলো সকালের রোদে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছিল। নিহতরা সবাই গাজা সিটির হাসানিয়া এবং আবু শারিয়া বংশের সদস্য, যাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছেন।
গাজার হামাস-পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের দ্বিতীয় মাসে ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় এই পরিবারের আবাসিক কম্পাউন্ডটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। সাবরা এলাকায় অবস্থিত এই ধ্বংসস্তূপ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকর্মীরা গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বাধ্য হন এবং জুলাইয়ের শেষ দুই সপ্তাহে পচনশীল দেহাবশেষগুলো উদ্ধার করা হয়।
গাজা কর্তৃপক্ষের দাবি, ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ সংঘাত শুরুর পর থেকে এটিই উপত্যকায় সবচেয়ে বড় গণদাফন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এই দীর্ঘ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
দাফন অনুষ্ঠানের সময় শোকাতুর স্বজনদের ফুল ছিটিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে দেখা গেছে। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা নারী ও শিশুরা এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন। সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল এক বক্তব্যে প্রশ্ন তুলে বলেন, 'হে জাতি, কেন গাজায় শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে? কেন নারীদের হত্যা করা হচ্ছে? কেন নিরপরাধ মানুষের ওপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে?' তিনি যে মঞ্চ থেকে কথা বলছিলেন, সেখানে আরবি ও ইংরেজিতে 'গাজায় গণহত্যা বন্ধ করো' লেখা ছিল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সব ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিপরীতে, তারা হামাসের বিরুদ্ধে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামোর নিচে থেকে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ এনেছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা গাজায় গণহত্যার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে উল্টো ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলাকে ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গণহত্যার প্রচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন।































