চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ভয়াবহ গ্যাস লিকেজের ঘটনায় ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে গঠিত সাত সদস্যের বিশেষজ্ঞ তদন্ত দল শিল্প মন্ত্রণালয়ে তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গত বুধবার কয়েক দফা ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান ও বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খান শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতির প্রমাণ মিলেছে। তাদের ধারণা, জাহাজটির ট্যাংকের ভেতরে থাকা পানিতে দ্রবীভূত অবস্থায় এই গ্যাস ছিল। ট্যাংক থেকে পানি অপসারণের সময় গ্যাসটি বেরিয়ে আসে এবং শ্রমিকরা এর সংস্পর্শে আসার পরপরই দুর্ঘটনার শিকার হন। বর্তমানে বাতাসে গ্যাসের উপস্থিতি না থাকলেও, দুর্ঘটনার সময় ট্যাংকের পানি বের করার প্রক্রিয়াটিই ছিল প্রাণঘাতী।
বিশেষজ্ঞ দলটির তথ্য অনুযায়ী, ফেরদৌস স্টিলের ওই পুরোনো জাহাজটিতে মোট চারটি ট্যাংক ছিল। এর মধ্যে একটির কাজ আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। গত ১৪ আগস্ট তিন নম্বর ট্যাংকের ব্যালাস্টের পানি বের করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্তের অংশ হিসেবে জাহাজ থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকার ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষার বিস্তারিত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে পানিতে হাইড্রোজেন সালফাইড কীভাবে তৈরি বা জমা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, গত ১৪ আগস্ট সীতাকুণ্ডের ওই শিপইয়ার্ডে গ্যাস লিকেজের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই পাঁচজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজন মারা যান। এই তদন্ত দলে বুয়েটের অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত খান ছাড়াও বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির পরিচালক ক্যাপ্টেন শোয়েব আহমেদ এবং বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সহকারী বিস্ফোরক পরিদর্শক মোহাম্মদ মেহেদি ইসলাম খানসহ মোট সাতজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।
সূত্র: দৈনিক আমার দেশ































