ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করেছে লিভারপুল। তবে সেন্ট জেমস পার্কে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দলের ২৫ বছর বয়সী তারকা জেরেমি ফ্রিম্পংয়ের পারফরম্যান্সে ভীষণ ক্ষুব্ধ লিভারপুল সমর্থকরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ফ্রিম্পংয়ের রক্ষণাত্মক ও আক্রমণাত্মক উভয় ক্ষেত্রের দুর্বল খেলার তীব্র সমালোচনা করেছেন তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই লিভারপুল আক্রমণাত্মক খেললেও মাত্র পঞ্চম মিনিটে পিছিয়ে পড়ে। নিউক্যাসেলের একটি দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন অ্যান্থনি ইলাঙ্গা। বিরতির পর ৫৫তম মিনিটে কোডি গাকপো দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে বল জালে জড়িয়ে লিভারপুলকে সমতায় ফেরান। তবে এই স্বস্তি অলরেডদের বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি; মাত্র দুই মিনিট পরেই (৫৭তম মিনিটে) আরেকটি জোরালো পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে নিউক্যাসেলকে আবারও ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন জো উইলক। পরাজয়ের মুখে থাকা লিভারপুলকে শেষ মুহূর্তে উদ্ধার করেন ভিক্টর মুনোজ। ডি-বক্সে লুইস হল তাকে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় অলরেডরা। যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে (৯০+৯ মিনিট) অত্যন্ত নিখুঁত স্পট-কিকে গোল করে দলের জন্য ১ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন ডোমিনিক সোবোসলাই।
এই ম্যাচে রক্ষণভাগে চরম সংগ্রাম করতে হয়েছে জেরেমি ফ্রিম্পংকে। পুরো ম্যাচে দুইবার প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়রা তাকে ড্রিবল করে কাটিয়ে চলে যান, পাঁচটি ডুয়েলে হেরে যান এবং তিনি একটি ইন্টারসেপশনও করতে পারেননি। এছাড়া হলুদ কার্ড দেখার পাশাপাশি আক্রমণভাগেও ভুল সিদ্ধান্ত ও বারবার বল হারিয়েছেন তিনি।
তার এমন পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ হয়ে এক লিভারপুল সমর্থক লিখেছেন, "ফ্রিম্পংয়ের চেয়ে আমি দলে একটা ট্রাফিক কোন রাখা পছন্দ করব। অত্যন্ত বাজে খেলোয়াড়।" আরেকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ফ্রিম্পং আমার মাথা সূর্যের চেয়েও বেশি গরম করে দিয়েছে। সে না পারে ক্রস করতে, না পারে ডিফেন্ড করতে। মাঠের মধ্যে কেবল মাথাকাটা মুরগির মতো দৌড়ায়।" অন্য এক সমর্থক লিখেছেন, "ফ্রিম্পংয়ের অন্য কোনো খেলা খোঁজা উচিত।" এমনকি একজন মন্তব্য করেছেন, "আমি বাড়িয়ে বলছি না, ফ্রিম্পং আমাদের ক্লাবের ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে সাইনিং হতে পারে।"
ম্যাচ শেষে লিভারপুল কোচ আন্দোনি ইরাওলা ড্রয়ের ফলে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, "আমরা যে ফলাফল চেয়েছিলাম, তা পাইনি। আজকের ম্যাচে আমাদের পরাজয় প্রাপ্য ছিল না। আমি খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করি। তারা শুরুতেই গোল পেয়ে যাওয়াটা কিছুটা অন্যায় ছিল। পুরো ম্যাচে নিশ্চিতভাবেই আমাদের জয়ের সুযোগ বেশি ছিল।"
ফুটবল পরিসংখ্যানভিত্তিক অ্যাপ 'ফটমব'-এর তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচে ৬১ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল লিভারপুল। তারা ৮৪ শতাংশ নির্ভুলতায় ৩৭০টি পাস সম্পন্ন করে। নিউক্যাসেলের গোলপোস্ট লক্ষ্য করে লিভারপুল মোট ২৭টি শট নেয়, যার মধ্যে ৭টি ছিল অন-টার্গেট (এক্সজি ২.৭৩)। অন্যদিকে, নিউক্যাসেল ৩৯ শতাংশ বল দখলে রেখে ১৩টি শট নেয়, যার ৪টি ছিল অন-টার্গেট (এক্সজি ১.৪৩)।
আগামী ২৯ আগস্ট নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে নটিংহাম ফরেস্টের মুখোমুখি হবে লিভারপুল।































