যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ খরা ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বনাঞ্চলে প্রাকৃতিক খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভালুকেরা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এবং মানুষের বাড়িঘর, দোকানপাট ও স্কুলের আশপাশে তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ঘাস, বেরি, বাদাম ও গাছপালার মতো প্রাকৃতিক উৎসগুলো নষ্ট হওয়ায় ভালুকেরা তাদের স্বাভাবিক খাদ্যের ৯০ শতাংশই পাচ্ছে না।
কলোরাডোর গ্র্যানবি শহরের বাসিন্দা ম্যাট এরিকো চলতি মাসের শুরুতে নিজের বাড়ির করিডোরে দুটি কালো ভালুক দেখতে পান। এর আগে ময়লার স্তূপে ভালুকের আনাগোনা দেখা গেলেও, ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ার ঘটনা এটাই প্রথম। একই এলাকায় ভালুকগুলোকে একটি ভ্যাপের দোকানেও দেখা গেছে। এছাড়া কলোরাডোর একটি স্কুলের কাছে, সান্তা ফেতে এবং ডেনভারে কৃষকদের বাজারের কাছেও ভালুকের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে, যেখানে বর্তমানে ১৭ হাজার থেকে ২০ হাজার কালো ভালুক রয়েছে। এ বছর সেখানে ৭ হাজারের বেশি ভালুক দেখার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যা ২০১৯ সালের আগের পূর্ণ বছরের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ বছর সেখানে অন্তত ছয়টি ভালুকের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, কোনো ভালুক মানুষের জন্য বিপজ্জনক মনে হলে বা বাড়িতে ঢুকে পড়লে সেগুলোকে মেরে ফেলতে হয়, যা মোট ঘটনার ১ দশমিক ৫ থেকে ২ শতাংশ।
মানুষের সঙ্গে সংঘাতের কারণে ভালুকের মৃত্যুর হারও বাড়ছে। নিউ মেক্সিকোতে এ বছর কর্তৃপক্ষ ও জমির মালিকরা ১৮৭টি ভালুক নিধন করেছেন, যা ২০১১ সালের পর সর্বোচ্চ। একই সময়ে সেখানে ৩৫টি পূর্ণবয়স্ক ভালুক ও ১৬টি শাবককে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে অঙ্গরাজ্যটিতে ভালুকের হামলায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যা গত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম প্রাণঘাতী আক্রমণের ঘটনা। এছাড়া ইউটাহতে এ বছর ৩৯টি ভালুককে হত্যা করা হয়েছে, যা কোনো পূর্ণ বছরের রেকর্ডের চেয়েও বেশি।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ জন বেকম্যান এই পরিস্থিতিকে মানুষ ও ভালুক উভয়ের জন্যই এক নজিরবিহীন পরীক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন। নেভাদার বিশেষজ্ঞ হিদার রাইখ আশঙ্কা করছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। শীতনিদ্রায় যাওয়ার আগে ভালুকগুলো শরীরে চর্বি জমানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে, ফলে মানুষের বসতিতে তাদের আনাগোনা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, মানুষের খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়লে ভালুকদের স্বাভাবিক আচরণ বদলে যেতে পারে। এমনকি শীতকালে পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক খাবার না থাকলে তাদের শীতনিদ্রার ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। ময়লার স্তূপ থেকে খাবার খোঁজার মাধ্যমেই মূলত সংঘাতের সূত্রপাত হয়, যা পরবর্তীতে মানুষের রান্নাঘর পর্যন্ত গড়ায়।
একটি পূর্ণবয়স্ক কালো ভালুকের ওজন ২০০ থেকে ৪০০ পাউন্ড বা ৯১ থেকে ১৮১ কেজি পর্যন্ত হতে পারে এবং তাদের নখর ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি লম্বা ও অত্যন্ত ধারালো। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ভালুক প্রতিরোধী ময়লার পাত্র ব্যবহার এবং পোষা প্রাণীর খাবার বা পাখির খাবার ভালুকের নাগালের বাইরে রাখার পরামর্শ দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষ দ্রুত কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে অনেক ক্ষেত্রে ভালুককে ভয় দেখিয়ে লোকালয় থেকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয় এবং প্রাণহানির প্রয়োজন পড়ে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মানুষের বাড়ি, দোকান, স্কুলের আশপাশ থেকে শুরু করে শহরের ব্যস্ত এলাকাতেও দেখা মিলছে এসব বন্য প্রাণীর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখেন, গোল্ডেন রিট্রিভার কুকুরের প্রায় সমান আকৃতির দুটি ভালুক তার বাড়ির করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিছুক্ষণ পর ভালুক দুটি সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে তাদের অসাধারণ ঘ্রাণশক্তি এখন মানুষের খাবারের দিকে টেনে নিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের বন্যপ্রাণী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষের পর অনেক ভালুককে মেরে ফেলা, গাড়ির নিচে চাপা পড়া কিংবা অন্যান্য দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২৫ বছরের মধ্যে এটিই সেখানে প্রথম প্রাণঘাতী ভালুকের আক্রমণ বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, পশ্চিমাঞ্চলের শুষ্কতা ও উষ্ণতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ






























