কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সরকারপ্রধান (প্রিমিয়ার) ডগ ফোর্ড শনিবার লেক অন্টারিওর পাড়ে একটি বিশাল নীল রঙের সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন, যাতে লেখা রয়েছে ‘লেক অন্টারিও – এখন এবং সর্বদা’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা ও নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সংযোগকারী এই হ্রদটির নাম পরিবর্তনের জন্য একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করার পর ফোর্ড এই পদক্ষেপ নেন এবং ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় ডগ ফোর্ড বলেন, "আমি এখানে আমাদের প্রদেশ ও দেশের অন্যতম রত্ন, সুন্দর লেক অন্টারিওর তীরে দাঁড়িয়ে আছি। আপনারা হয়তো শুনেছেন যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই হ্রদের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন। কারণ, আমরা অন্টারিও ও কানাডা নিজেদের অধিকারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি, যা তিনি পছন্দ করছেন না। কিন্তু আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আসার বহু আগে থেকেই এর নাম ছিল লেক অন্টারিও এবং তিনি চলে যাওয়ার অনেক পরেও এটি লেক অন্টারিও নামেই পরিচিত থাকবে।"
হ্যামিল্টনের ফিফটি পয়েন্ট কনজারভেশন এরিয়া নামক একটি পার্কে এই নতুন সাইনবোর্ডটি স্থাপন করা হয়েছে। ইংরেজিতে লেখার পাশাপাশি ফরাসি ভাষায়ও এতে লেখা হয়েছে ‘লাক অন্টারিও – ওহুরদুয়ি এ পুর তুজুর’ (Lac Ontario – Aujourd'hui et pour toujours), যার অর্থ ‘লেক অন্টারিও – আজ এবং চিরকাল’। ট্রাম্প এবং সবাইকে এই বিষয়টি মনে করিয়ে দিতেই প্রদেশ কর্তৃপক্ষ এই সাইনবোর্ড বসিয়েছে বলে ফোর্ড উল্লেখ করেন।
কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধের মধ্যে গত সপ্তাহে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে লেক অন্টারিওর নাম বদলে ‘লেক আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আর অন্টারিওর সঙ্গে বেশি ব্যবসা করার আশা করে না।
‘অন্টারিও’ শব্দটি মূলত এসেছে ইরোকোয়ান শব্দ ‘ওনিয়াতারী:ইও’ (oniatarí:io) থেকে, যার অর্থ ‘উজ্জ্বল পানির হ্রদ’। এই অঞ্চলের ইরোকোয়ান ভাষাভাষী আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীগুলোর অন্যতম ‘সেনেকা নেশন’-এর প্রধানও ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে নির্বাহী আদেশটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
সেনেকা নেশনের প্রেসিডেন্ট জে. কনরাড সেনেকা বলেন, এই আদেশটি ২২৫ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি চুক্তি লঙ্ঘন করে এবং আদিবাসীদের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন করে, যারা মূলত এই হ্রদের নামকরণ করেছিল। দুই দেশের সৃষ্টির বহু আগে থেকেই হ্রদের আশপাশে বসবাসকারী আদিবাসীদের সংস্কৃতির প্রতিফলন হিসেবে এই নামটি বজায় থাকা উচিত বলে তিনি মনে করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, "প্রেসিডেন্ট কোনো দায়িত্বজ্ঞানহীন রাজনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতির ওপর মালিকানা দাবি করতে পারেন না বা এটিকে মুছে দিতে পারেন না।"
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্র শত শত কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ শুরু করে। ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, আগামী জানুয়ারি থেকে কানাডার সমস্ত গাড়ি ও ইস্পাত আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্প দাবি করেন, "কানাডা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রকে ঠকিয়ে আসছে।" এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন আমদানির ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কানাডার প্রতি ট্রাম্পের আচরণের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন ফোর্ড। সিবিএস নিউজ-এর প্রধান ওয়াশিংটন প্রতিনিধি মেজর গ্যারেটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফোর্ড বলেন, "তিনি আমাদের সাথে এমন আচরণ করছেন যেন আমরা কমিউনিস্ট চীন। আমরা পুরো বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মিত্র এবং আমি তা বজায় রাখতে চাই।"
বাণিজ্য যুদ্ধ তীব্র হওয়ার সাথে সাথে ফোর্ড ও ট্রাম্পের মধ্যে বাকযুদ্ধও চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্প ফোর্ডকে ‘অনুজ্জ্বল’ এবং প্রধানমন্ত্রী কার্নির ‘অনুচর’ বলে উপহাস করেছেন। অন্যদিকে ফোর্ড মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘স্বৈরাচারী’ বলে অভিহিত করেছেন এবং অত্যন্ত কড়া ভাষায় তাঁর সমালোচনা করেছেন।





























