যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্তৃক আটকের পর ব্রিটিশ ডানপন্থী রাজনৈতিক ভাষ্যকার মাইলো ইয়ানোপোলোসকে নিজ দেশ যুক্তরাজ্যে নির্বাসন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ৪১ বছর বয়সী ইয়ানোপোলোসকে তার নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র বিবিসিকে জানান, ইয়ানোপোলোস একজন অবৈধ অভিবাসী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন।
দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কেন্টে বেড়ে ওঠা ইয়ানোপোলোস গত ২৭ আগস্ট লুই আর্মস্ট্রং নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর গ্রেপ্তার হন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মতে, ২০১৯ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর তিনি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও অবৈধভাবে দেশটিতে অবস্থান করছিলেন। বিতর্কিত এই ভাষ্যকার নিজেকে ইন্টারনেটের সবচেয়ে চমৎকার ভিলেন হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন এবং অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন। গত বছর তিনি আইসিই এজেন্টদের ডিউটিরত অবস্থায় পূর্ণ আইনি দায়মুক্তি প্রদানের আহ্বান জানিয়েছিলেন। এছাড়া ২০২৫ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাসন দেওয়া উচিত।
২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাথমিক সমর্থক হিসেবে ইয়ানোপোলোস রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে 'গেস ফর ট্রাম্প' নামক একটি অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি ট্রাম্পের সমালোচক হয়ে উঠলেও তার বিভিন্ন এজেন্ডার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছিলেন, ট্রাম্প তার পথ হারিয়েছেন এবং বিদেশি স্বার্থের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন।
ট্রাম্পের মিত্র এবং ডানপন্থী ভাষ্যকার লরা লুমান ইয়ানোপোলোসের এই গ্রেপ্তারের কৃতিত্ব দাবি করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, ইয়ানোপোলোসকে আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। নিজের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে ইয়ানোপোলোস ব্রেতবার্ত নিউজের সম্পাদক এবং র্যাপার কানিয়ে ওয়েস্টের রাজনৈতিক সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২০ সালে ওয়েস্টের ব্যর্থ প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও তিনি সহায়তা করেছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেইলর গ্রিনের জন্যও কাজ করেছেন।
২০১৭ সালে পেডোফিলিয়াকে সমর্থন করার অভিযোগ উঠলে তিনি সিপ্যাক (CPAC) সম্মেলন থেকে আমন্ত্রিত হয়েও বাদ পড়েন এবং ব্রেতবার্ত নিউজ থেকে পদত্যাগ করেন। যদিও তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন যে তিনি তার নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা বলছিলেন। নিজেকে 'প্রাক্তন সমকামী' হিসেবে পরিচয় দেওয়া ইয়ানোপোলোস অতীতে আল্ট-রাইট গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেকে এই গোষ্ঠীর অংশ বলে স্বীকার করেননি।





























