ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক জটিলতার কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে। রোববার সকাল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। ভারতের হিলি এক্সপোর্টার্স অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এক চিঠির মাধ্যমে তাদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি বন্দর বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে এবং ভারতীয় রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে। এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ৩০ আগস্ট থেকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
বাংলাহিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম শাহিন মন্ডল জানান, ভারতীয় রপ্তানিকারক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিকাশ চন্দ্র মন্ডল স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে তারা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, এটি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত এবং এর ফলে বাংলাদেশি আমদানিকারকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।
আমদানিকারক রেজা আহমেদ বিপুল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, হঠাৎ করে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে। হিলি ও এর আশপাশের এলাকায় অনেক পচনশীল পণ্য ট্রাকবোঝাই অবস্থায় রয়েছে, যা যথাসময়ে বন্দরে প্রবেশ করতে না পারলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী ইতিমধ্যে এলসির মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করেছেন, ফলে তাদের মধ্যে ব্যাপক দুশ্চিন্তা কাজ করছে। এছাড়া বন্দরের শত শত শ্রমিকও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। দীর্ঘমেয়াদে এই অচলাবস্থা চললে বাংলাদেশের বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন।
এদিকে, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের পারাপার স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন চেকপোস্টের ওসি মো. জাকারিয়া। তিনি জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন পারাপারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।































