মহিলাদের ক্রীড়াঙ্গনে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণের বিরোধিতার জেরে ডব্লিউএনবিএ (WNBA) তারকা সোফি কানিংহামকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়ানা ফিভারের এই গার্ডের পাশে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন টেনিস কিংবদন্তি মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা। সম্প্রতি শিকাগো স্কাইয়ের ডিজোনাই ক্যারিংটন কর্তৃক কানিংহামকে একটি মারাত্মক ফাউল করার ঘটনার পর এই আলোচনা নতুন মোড় নিয়েছে।
শিকাগো স্কাইয়ের বিপক্ষে ইন্ডিয়ানা ফিভারের ৯০-৮৬ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটিতে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। কানিংহাম যখন খুব কাছ থেকে শট নেওয়ার জন্য লাফিয়ে ওঠেন, তখন ক্যারিংটন তাকে একটি বিপজ্জনক ফাউল করেন। এরপর দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হলে শেষ পর্যন্ত ক্যারিংটনকে ম্যাচ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গত শনিবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একজন ব্যবহারকারী এই ফাউলের ভিডিও শেয়ার করে অভিযোগ করেন যে, ডব্লিউএনবিএ-তে কানিংহামের প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করছে। তিনি লেখেন, "এটি মোটেও ভালো কাজ নয়! ওরা সোফির পেছনে লেগেছে।"
এই পোস্টে সাড়া দিয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান সাবেক বিশ্বসেরা টেনিস তারকা এবং ১৮ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যাম একক জয়ী মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা। চেক-আমেরিকান এই টেনিস কিংবদন্তি মনে করেন, ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের বিষয়ে কানিংহামের 'সঠিক' মতামতের কারণে তাকে এভাবে টার্গেট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নাভ্রাতিলোভা এক্সে লেখেন, "এটি একটি ফ্ল্যাগ্র্যান্ট (মারাত্মক) ফাউল ছিল। নিজের মত প্রকাশের কারণে যদি এই খেলোয়াড়রা সোফির পেছনে লেগে থাকে, তবে তা মোটেও ঠিক নয়। তা ছাড়া এটি চরম বোকামিও, কারণ সোফির বক্তব্য একদম সঠিক।"
এদিকে, ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের বিতর্ক নিয়ে সোফি কানিংহামের সতীর্থ কেটলিন ক্লার্কের নীরব ভূমিকা বা এড়িয়ে যাওয়ার নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন নাভ্রাতিলোভা। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ক্লার্কের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, ডব্লিউএনবিএ-র ড্রেসিংরুমে ট্রান্সজেন্ডার অ্যাথলেটদের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয় কি না। অতীতেও এই বিষয়ে মন্তব্য করা এড়িয়ে যাওয়া ক্লার্ক এবারও সরাসরি কোনো উত্তর দেননি।
ক্লার্ক বলেন, "আমাদের লকার রুমে এই বিষয়ে আসলে তেমন কোনো আলোচনা হয় না। আমার মনে হয়, লিগ এবং গভর্নিং বডিগুলোর কাজ হলো অ্যাথলেটদের সাথে আলোচনা করে এর সমাধান খুঁজে বের করা। আমার পুরো মনোযোগ বাস্কেটবল এবং আমরা কীভাবে জয় পেতে পারি তার ওপর; আমরা কেবল তা নিয়েই কথা বলি।"
ক্লার্কের এমন কৌশলী উত্তর পছন্দ হয়নি নাভ্রাতিলোভার। তিনি ইন্ডিয়ানা ফিভারের এই গার্ডের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, "এটি কাউকে অসন্তুষ্ট না করার একটি অপকৌশল (বেইলাউট)… অনেকটা বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানের সেই বিখ্যাত উক্তির মতো— 'রিপাবলিকানরাও তো জুতো কেনে'। অত্যন্ত দুঃখজনক…"
উল্লেখ্য, টেনিস অঙ্গনেও মার্টিনা নাভ্রাতিলোভা নারীদের টেনিসে সমতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখার জন্য ডব্লিউটিএ (WTA)-এর নতুন সেক্স-স্ক্রিনিং পলিসি বা লিঙ্গ পরীক্ষা নীতির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এই নীতির আওতায় ওয়ান-টাইম টেস্ট বা একবার পরীক্ষার মাধ্যমে নারী টেনিসে সমতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।






























