ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লিভারপুলের মালিকানায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নাম। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী জেফ বেজোসের নেতৃত্বাধীন একটি কনসোর্টিয়াম বা জোট ক্লাবটির সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব (মাইনোরিটি স্টেক) কিনে নেওয়ার চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আর্থিক মূল্য ১৫০ কোটি পাউন্ডের (১.৫ বিলিয়ন পাউন্ড) বেশি। তবে মালিকানার একটি অংশ বিক্রি করলেও ক্লাবের নিয়ন্ত্রণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার ভার আগের মতোই বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিক ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপের (এফএসজি) হাতেই থাকবে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লিভারপুলের শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো পরিবর্তন আসছে না। জন ডব্লিউ হেনরি ক্লাবের প্রধান মালিক হিসেবে বহাল থাকছেন। পাশাপাশি টম ওয়ার্নার চেয়ারম্যান এবং মাইক গর্ডন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাবেন। ক্লাবের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও মূল নীতিগুলোতেও কোনো পরিবর্তন আনা হবে না।
প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের বিপুল সম্পদের মালিক জেফ বেজোস নিজে সরাসরি লিভারপুলের পরিচালনা পর্ষদে (বোর্ড) যোগ দেবেন না। তবে তার প্রধান বিনিয়োগ করা তহবিল 'কে-ফাইভ স্পোর্টস' (K5 Sports) থেকে ব্রায়ান বাউম ক্লাবটির বর্ধিত বোর্ডে যুক্ত হবেন। এছাড়া ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিনের স্ত্রী এলেইন সাভেরিনও এই বোর্ডে স্থান পাচ্ছেন, যিনি বর্তমানে সিঙ্গাপুরে বসবাস করছেন। অন্যদিকে, জেফ বেজোসের মতো একজন ধনকুবের যুক্ত হলেও লিভারপুলের ট্রান্সফার বাজেট বা খেলোয়াড় কেনার নীতিতে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আসবে না। আর্থিক স্থায়িত্বের নিয়ম (ফাইন্যান্সিয়াল সাসটেইনেবিলিটি রুলস) মেনে চলতে হবে ক্লাবটিকে। ফলে দল গোছানোর জন্য ম্যানেজার আন্দোনি ইরাওলা নতুন কোনো অতিরিক্ত তহবিল পাচ্ছেন না। দলবদলের যাবতীয় সিদ্ধান্ত ফুটবল পরিচালক রিচার্ড হিউজের নেতৃত্বাধীন স্পোর্টিং বিভাগের ওপরই ন্যস্ত থাকবে।
এই চুক্তির অন্যতম মূল কারিগর ভারতীয় বংশোদ্ভূত ইস্পাত ব্যবসায়ী লক্ষ্মী মিত্তালের জামাতা ও ধনকুবের অমিত ভাটিয়া। তিনি লিভারপুলের নতুন ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন। গত মাসে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্স (কিউপিআর) ক্লাবের বোর্ড থেকে পদত্যাগ করা ভাটিয়া কেবল লিভারপুলেই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী ছিলেন। এফএসজি-র সাথে আলোচনার পর তিনি বেজোস ও সাভেরিনকে নিয়ে এই কনসোর্টিয়াম গঠন করেন। এফএসজি-র প্রেসিডেন্ট মাইক গর্ডন এই অংশীদারিত্বের প্রশংসা করে বলেন, "লিভারপুল সবসময়ই এক মৌসুমের বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের কথা চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেয়। অমিত এবং এই কনসোর্টিয়াম আমাদের এই দীর্ঘমেয়াদি দর্শনের অংশীদার। তাদের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আমরা একসঙ্গে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।"
নতুন অংশীদারিত্ব নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে অমিত ভাটিয়া বলেন, "লিভারপুল ফুটবল ক্লাবে এফএসজি-র পাশাপাশি বিনিয়োগ করতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। অ্যানফিল্ডে এফএসজি যা অর্জন করেছে, তার প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এই ক্লাবের অংশীদার হতে পারা এক বিশাল সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা এই বিনিয়োগ করছি কারণ আমরা লিভারপুল ও এর নেতৃত্বের ওপর গভীরভাবে বিশ্বাস করি।" এফএসজি জানিয়েছে, তাদের আর্থিক সংকটের কারণে এই শেয়ার বিক্রির প্রয়োজন ছিল না, তবে '১৮৯২ হোল্ডিংস'-এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা দেখে তারা এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছে।




























