বিয়ের খাবারে খাসি না থাকায় আসর থেকে চলে গিয়ে দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ মিয়া অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টের মাধ্যমে বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনি। কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামে কনের মামা তাজু সরকারের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নিজের নতুন জীবনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়ে জুনায়েদ ফেসবুকে লিখেছেন, সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে।
জুনায়েদের নববধূর নাম জান্নাত আক্তার। তিনি আখাউড়া উপজেলার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মজার বিষয় হলো, কনের মামার বাড়ি এবং জুনায়েদের বাড়ি একই গ্রামে। এবারের বিয়েতে দেনমোহর নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ টাকা। এর আগে প্রথমবার বিয়ের আসরে খাসি না থাকায় যে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, এবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটেনি এবং খাসি দিয়েই বিয়ের আপ্যায়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এর আগে আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতলা গ্রামের শফিক মিয়ার মেয়ের সঙ্গে জুনায়েদের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জুনায়েদ কনের বাড়িতে পৌঁছালে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়, তবে ফুলের আয়োজন নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এরপর খাওয়ার সময় খাসির মাংস না থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। খাসি ছাড়া খাবেন না এবং খাসি না দিলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতাও করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। কনেপক্ষের স্বজনরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেও তিনি সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে নিজের ফেসবুক পোস্টে প্রথম বিয়ের কনেপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন জুনায়েদ। তার দাবি, খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করেছিল। তার পরিবারের পক্ষ থেকে এতে রাজি না হওয়ায় কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি কনের জন্য আনা মালামালও ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। জুনায়েদের আরও অভিযোগ, বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং টাকা দিয়ে সাংবাদিক ভাড়া করে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তবে কনেপক্ষ এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ১৪ আগস্ট উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে লিখিত ফর্দনামায় ২ লাখ টাকা নগদ কাবিনে বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, যেখানে বরের পক্ষের প্রতিনিধি মনির হোসেন স্বাক্ষর করেছিলেন।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ






























