আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে পা রেখেই নিজের জাত চিনিয়েছেন ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার মানব সুথার। ভারতের টেস্ট দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তিনি এখন এক অপরিহার্য নাম। গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে ১০ উইকেট শিকার করে তিনি দলকে ১৬৫ রানের বড় জয় এনে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে মাত্র দুই টেস্ট খেলে ১৭ উইকেট নিয়ে তিনি এখন ক্রিকেট বিশ্বের নতুন সেনসেশন।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার দৌড়ে টিকে থাকতে ভারতকে পরবর্তী নয়টি টেস্টের মধ্যে অন্তত সাতটিতে জিততে হতো। এমন চাপের মুখে শ্রীলঙ্কার স্পিন-সহায়ক কন্ডিশনে ভারত তিনজন স্পিনার নিয়ে মাঠে নামে। যেখানে রবীন্দ্র জাদেজা ৪টি এবং কুলদীপ যাদব মাত্র ১টি উইকেট পেলেও, সুথার একাই শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের নাভিশ্বাস তুলে ছাড়েন। দ্বিতীয় ইনিংসে ৬-৫৫ সহ ম্যাচে মোট ১০-১৩১ বোলিং ফিগার নিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছেন।
এর আগে ২০০৮ সালে হরভজন সিং (১০/১৫৩) এবং ২০১৫ সালে রবিচন্দ্রন অশ্বিন (১০/১৬০) গলে যে কীর্তি গড়েছিলেন, সুথার তাদের ছাড়িয়ে শ্রীলঙ্কার মাটিতে সেরা বোলিং ফিগারের রেকর্ড নিজের নামে করেছেন। তিনি শ্রীলঙ্কার মাটিতে দশ উইকেট নেওয়া তৃতীয় ভারতীয় বোলার।
সুথারের এই সাফল্য আকস্মিক নয়। চলতি বছরের জুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্টে তিনি ৬-৩৩ সহ মোট সাত উইকেট নিয়েছিলেন। অর্থাৎ, মাত্র দুই টেস্টেই তিনি দুটি পাঁচ উইকেট শিকারসহ ১৭টি উইকেট তুলে নিয়েছেন। তার এই ধারাবাহিকতা নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিচ্ছে।
গুজরাট টাইটানস এবং ভারত অধিনায়ক শুভমন গিল সুথারের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। গিলের মতে, সুথার কেবল একজন বোলার নন, বরং তিনি একজন অলরাউন্ডার হিসেবেও দলের সম্পদ। দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে আট নম্বর পজিশনে সুথারকে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। গিল বলেন, “ওর ব্যাটিং করার ক্ষমতা আছে এবং আমরা জানি ও পারফর্ম করতে পারে। ওর বোলিংয়ের পাশাপাশি আট নম্বর ব্যাটার হিসেবেও ভালো করার সম্ভাবনা রয়েছে।”
আফগানিস্তান টেস্ট ও শ্রীলঙ্কা সিরিজের মাঝে সুথার ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে দুটি ম্যাচ খেলে ১১ উইকেট নিয়েছিলেন। রবীন্দ্র জাদেজার মতো অভিজ্ঞ বোলারের সাথে ড্রেসিংরুম শেয়ার করাটা তার জন্য বড় পাওয়া। সুথার বলেন, “জাদেজার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। তিনি যেভাবে ক্রিজ ব্যবহার করেন এবং স্টাম্প বরাবর বল করে যান, তা বিশ্বমানের। ব্যাটসম্যান যাই করুক না কেন, নিজের লাইনে অটল থাকাটা আমি তার কাছ থেকে শিখছি।”
সুথার আরও জানান, তিনি ধৈর্য এবং লম্বা স্পেলে বল করার কৌশল রপ্ত করেছেন। তার কথায়, “কতক্ষণ স্টাম্পে বল করা যায়? কীভাবে ব্যাটসম্যানকে ভুল শট খেলতে বাধ্য করা যায়? এই বিষয়গুলো আমি জাদেজার কাছ থেকে শিখছি।” গলের পিচে শ্রীলঙ্কার স্পিনারদের বোলিং দেখেও তিনি পেস ভেরিয়েশন এবং পিচ থেকে টার্ন আদায়ের কৌশলগুলো নোট করেছেন। তিনি বলেন, “তারা ভালো বোলিং করেছে। তারা পেস পরিবর্তন করেছে এবং এই উইকেটে আপনি যত ধারাবাহিক থাকবেন, তত বেশি সুবিধা পাবেন। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করেছি।”
ম্যাচ শেষে শুভমন গিল তরুণ এই স্পিনারের ভূয়সী প্রশংসা করেন। গিল বলেন, “সে দুর্দান্ত বোলিং করছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ হোক বা এই ম্যাচ, সে অসাধারণ। সে অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিশীল এবং দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের হয়ে খেলার মতো একজন খেলোয়াড়।”
যদিও সুথারের টেস্ট ক্যারিয়ার সবে শুরু, তবে রাজস্থানের এই তরুণ ইতিমধ্যেই প্রমাণ করেছেন কেন টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে দ্রুত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়ে এসেছে। গলে তার এই ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স ভারতের টেস্ট ভবিষ্যৎকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
































