দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতার ২৯তম আসরকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য এই প্রতিযোগিতায় ১৩৫টি দেশ থেকে রেকর্ড ২০,৫০০ জন আবেদন করেছেন, যা কুরআন বিষয়ক যেকোনো প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের রেকর্ড। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং দুবাইয়ের শাসক মহামান্য শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের পৃষ্ঠপোষকতায় এই আয়োজন পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিযোগিতার এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর কুরআন তিলাওয়াতকারীর সন্ধানে’ শীর্ষক নতুন উন্নয়নমূলক রূপকল্পকে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় প্রথাগত মনোনয়ন প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সরাসরি ব্যক্তিগত আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণের পথকে আরও সহজ ও বিস্তৃত করেছে। এছাড়া, প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২ মিলিয়ন দিরহামের বেশি পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।
ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড চ্যারিটেবল অ্যাক্টিভিটিস ডিপার্টমেন্টের মহাপরিচালক এবং দুবাই আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতার ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ দারবিশ আল মুহাইরি জানান, শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই দুবাই আজ কুরআন শিক্ষা ও প্রচারের বৈশ্বিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, এই রেকর্ড সংখ্যক অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, নতুন এই রূপকল্প কুরআন চর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং তরুণ প্রজন্মকে কুরআনের মূল্যবোধের সাথে আরও গভীরভাবে যুক্ত করছে।
আবেদনকারীদের মধ্যে বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা গেছে। এর মধ্যে মিশর থেকে সর্বোচ্চ ৬,৮৩৮টি, ইন্দোনেশিয়া থেকে ১,৯২৩টি, পাকিস্তান থেকে ১,৮৬২টি এবং সিরিয়া থেকে ১,৫১১টি আবেদন জমা পড়েছে। বয়সভিত্তিক ক্যাটাগরির মধ্যে ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের পুরুষ বিভাগে ১৪,০৪০ জন এবং ১৬ বছরের কম বয়সীদের পুরুষ ও নারী বিভাগে ৬,৪৯৫ জন আবেদন করেছেন, যার মধ্যে ২,৩৯৪ জন নারী প্রতিযোগী রয়েছেন।
পুরস্কারের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। ১৬ বছরের বেশি বয়সীদের পুরুষ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী পাবেন ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। একইভাবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের পুরুষ ও নারী বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারীকেও ১ মিলিয়ন ডলার প্রদান করা হবে। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের জন্য যথাক্রমে ১ লাখ ও ৫০ হাজার ডলারের পুরস্কার রয়েছে। পাশাপাশি ‘গ্লোবাল কুরআন পার্সোনালিটি’ হিসেবে একজনকে ১ মিলিয়ন ডলার সম্মাননা দেওয়া হবে।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ের একটি আকর্ষণীয় উদ্যোগ হলো, নির্বাচিত সেরা প্রতিযোগীদের পবিত্র রমজান মাসে দুবাইয়ে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তারা শহরের প্রধান মসজিদগুলোতে তারাবিহর নামাজের ইমামতি করবেন। এরপর ৮ থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত পাবলিক ভোটিংয়ের মাধ্যমে ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর কুরআন তিলাওয়াতকারী’ নির্বাচন করা হবে।
বর্তমানে জমা পড়া আবেদনগুলো কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাজবিদ, তিলাওয়াতের মান এবং কণ্ঠের উৎকর্ষের ওপর ভিত্তি করে বিচারক প্যানেল সেরা তিলাওয়াতকারীদের পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচন করছেন। ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য দ্বিতীয় ধাপের বাছাই প্রক্রিয়া ১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮টি আসরের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতা বিশ্বজুড়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। এ পর্যন্ত ১২৩টি দেশ থেকে ৭,৮২৬ জন প্রতিযোগী এতে অংশ নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৬৭ মিলিয়ন দিরহামের বেশি পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে এবং ২৪ জন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘গ্লোবাল কুরআন পার্সোনালিটি’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে।
সূত্র: Gulf Today
































