জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর উত্তরায় মীর মুগ্ধসহ ১১ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ২৬ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সে বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত জানাবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে আটজন আসামি কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মির্জা সালাহউদ্দিন, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক ওসি মো. মজিবুর রহমান, আজমপুর পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক কনস্টেবল মো. হোসেন আলী, উত্তরা পশ্চিম থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনোয়ার ইসলাম চৌধুরী রবিন, যুবলীগ সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন রুবেল, আওয়ামী লীগ নেতা মো. সোহেল রানা, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি মো. শাহ আলম এবং তুরাগ থানা এলাকার আওয়ামী লীগ কর্মী মো. ইরফানুল হক গাজী।
এছাড়া এই মামলায় আরও ১৮ জন আসামি পলাতক রয়েছেন। তাদের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ হাবিব হাসান, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. তোহিদুল ইসলাম, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার সুমন কর, উত্তরা পশ্চিম থানার সাবেক ওসি বিএম ফরমান আলী, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মাহমুদুল হাসান, সাবেক কনস্টেবল মো. আবু ছায়েম, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন আল সোহেল, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. ফরিদ আহমেদ, ডিএম. শামীম, মো. আনিছুর রহমান নাঈম, মো. আফছার উদ্দিন খান, উত্তরা পূর্ব থানার সাবেক এসআই খালেদ আনোয়ার, সাবেক এএসআই মো. রোকনুজ্জামান, উত্তরা পশ্চিম থানা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মুরতাফা বিন ওমর এবং তুরাগ থানা যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন।
গত ৩ আগস্ট এই মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষ হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানালেও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের অব্যাহতি বা ডিসচার্জের আবেদন করেছিলেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন।
প্রসিকিউশনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই উত্তরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও এর আশপাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়। এতে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) এমবিএ শিক্ষার্থী মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধসহ সাতজন নিহত হন। এ সময় উবারচালক মোখলেছুর রহমান ওরফে দুর্জয়কে পুলিশের এপিসির চাকায় পিষ্ট করে হত্যার পর মরদেহ তুরাগ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই ঘটনায় মেহেদী হাসানসহ পাঁচজনকে গুলি করে গুরুতর জখম করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, ১৯ জুলাই একই এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর পুনরায় গুলি চালানো হলে রিদোয়ান শরীফ রিয়াদ জয়সহ আরও চারজন প্রাণ হারান। এছাড়া রাইসুল রহমান রাতুলকে গুলি করে গুরুতর আহত করা হয়। প্রসিকিউশন এই দুটি ঘটনাকেই পরিকল্পিত, ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২১ জুলাই প্রসিকিউশনের শুনানিতে এ মামলায় আনা দুটি অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একইসঙ্গে ঘটনার বীভৎসতা ও মুগ্ধসহ অন্যদের হত্যার বর্ণনা তুলে ধরা হয়।
সূত্র: ঢাকা পোস্ট































