রাশিয়ার তাতারস্তান প্রজাতন্ত্রের অভ্যন্তরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একটি শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং আরও ৭৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর এটি অন্যতম বড় ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা। সোমবার সকালে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৭৫০ মাইল পূর্বে অবস্থিত নিজনেকামস্ক শহরে এই ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়।
তাতারস্তানের প্রধান রুস্তম মিন্নিকানভ জানিয়েছেন, সোমবার সকালে শিল্প ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে এই ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। রাশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলায় একটি প্রধান তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা তেলের স্থাপনায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা কমিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন প্রায় প্রতিদিনই রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। কিয়েভের লক্ষ্য রাশিয়ার তেল শোধন ক্ষমতা কমিয়ে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আলোচনার টেবিলে বসতে এবং চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই আগ্রাসন বন্ধ করতে বাধ্য করার জন্য এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেন, "আমরা সম্পূর্ণ ন্যায্য জবাব দিচ্ছি এবং রাশিয়ার প্রতিটি হামলার উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। রাশিয়ার যুদ্ধ এখন তাদের নিজেদের ঘরে, অর্থাৎ রাশিয়ার ভেতরে আরও বেশি অনুভূত হবে। এই যুদ্ধ এখনও অব্যাহত থাকার একমাত্র কারণ হলো যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার অনিচ্ছা।"
অন্যদিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে যে রাশিয়াও নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র, শক্তিশালী গ্লাইড বোমা ও ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের আকাশসীমায় হামলা চালাচ্ছে, যার ফলে বেসামরিক এলাকাগুলোতে হাজার হাজার মানুষ হতাহত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় কার্যালয় সোমবার জানিয়েছে, ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রো এলাকায় তাদের একটি গুদামে ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে দুইবার হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় সামনের সারির স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোর জন্য রাখা আনুমানিক ৫ লাখ ডলার মূল্যের জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে।






























