অস্ট্রিয়ার বিশ্বখ্যাত সুরকার ভোলফগ্যাং আমাদেউস মোজার্টের ২৭০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে বড় ধরনের চুরির ঘটনা ঘটেছে। মোজার্টের জন্মশহর সালজবার্গ থেকে তাঁর প্রিয় কুকুরের সাথে থাকা ২১০টি সোনালী রঙের ছোট মূর্তি চুরি হয়ে গেছে বলে বুধবার নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা। এর ফলে সুরকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত এই প্রদর্শনী এলাকার জাঁকজমক অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে।
গত ১৫ জুলাই মোজার্টইউম ফাউন্ডেশন সুরকারের সাবেক বাসভবনের বাগান, থাকার ঘর এবং কয়েকটি প্যাভিলিয়নে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করে। জার্মান ধারণাগত শিল্পী ওটমার হার্লের নকশা করা প্রায় ৫০ সেন্টিমিটার (২০ ইঞ্চির কম) উচ্চতার ৩২০টি পলিমার মূর্তি সেখানে স্থাপন করা হয়েছিল। মূর্তিগুলোতে মোজার্টকে তাঁর প্রিয় কুকুর 'পিম্পার্ল'-এর সাথে দেখা যায়। কিন্তু প্রদর্শনী শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই ৮০টিরও বেশি মূর্তি গায়েব হয়ে যায় এবং বুধবার নাগাদ চুরি হওয়া মূর্তির মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২১০টিতে।
এই চুরির ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন শিল্পী ওটমার হার্ল। জার্মান বার্তা সংস্থা ডিপিএ-কে তিনি বলেন, একজন শিল্পীর জন্য সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো যখন তাঁর শিল্পকর্ম এভাবে বিলীন হয়ে যায়। তিনি মনে করেন না যে সাধারণ দর্শনার্থীরা এই কাজ করেছেন, বরং এটি একটি পরিকল্পিত চুরি। প্রদর্শনী শেষে প্রতিটি মূর্তি প্রায় ১০০ ইউরো (১১৪ ডলার) মূল্যে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল ওটমারের। ফলে চোরেরা এই ২১০টি মিনি-মোজার্ট চুরি করে রাতারাতি কোটিপতি হতে পারবে না।
আয়োজকরা চুরির আশঙ্কায় কিছু অতিরিক্ত মূর্তি আলাদা করে রাখলেও, এত বড় চুরির ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ব্যাকআপ তাঁদের কাছে ছিল না। তার ওপর নতুন করে মূর্তি তৈরি করার কোনো দ্রুত উপায়ও নেই, কারণ মূর্তি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। ফলে অবশিষ্ট মূর্তিগুলোকে এখন একটু ফাঁকা ফাঁকা করে সাজিয়ে আগামী ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রদর্শনীটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পলিমার ভাস্কর্য তৈরির জন্য সুপরিচিত ওটমারের কাছে অবশ্য তাঁর শিল্পকর্ম চুরির ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগে জার্মানির বায়রেউথে আয়োজিত একটি প্রদর্শনী থেকেও রিচার্ড ওয়াগনারের এক সেট মূর্তি মাত্র ১০ দিনের মধ্যে চুরি হয়ে গিয়েছিল। ওটমার বলেন, জনসাধারণের উন্মুক্ত স্থানের প্রকৃতিই এমন। উন্মুক্ত স্থানে কাজ করলে সেখানে কী ঘটছে তা নিয়ে শিল্পীর অভিযোগ করা চলে না। ভাঙচুর থেকে শুরু করে চুরি—সবকিছুই এখানে ঘটতে পারে। এটাই বাস্তব।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ওটমার বলেন, তিনি মোজার্টের কোনো বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করতে চাননি, কারণ তেমনটি ইতিমধ্যেই প্রচুর রয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর মানবিক দিকটি ফুটিয়ে তুলতে; দেখাতে চেয়েছিলেন যে অসামান্য প্রতিভা হওয়া সত্ত্বেও তিনি একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন। মোজার্ট ও তাঁর পরিবার প্রায়ই তাঁদের বাড়ির পাশে মিরাবেল গার্ডেনে প্রিয় কুকুর পিম্পার্লকে নিয়ে দীর্ঘ সময় হাঁটতেন। সেই মানবিক ছোঁয়া দিতেই মোজার্টের পাশে তাঁর প্রিয় কুকুরটিকে যুক্ত করেছিলেন এই শিল্পী।































