দুবাইয়ের আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবকাঠামো শক্তিশালী করতে এবং টার্মিনালগুলোর মধ্যে যাত্রীদের যাতায়াত সহজতর করার লক্ষ্যে বিশ্বের বৃহত্তম অটোমেটেড প্যাসেঞ্জার মুভার (এপিএম) ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে দুবাই। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের জন্য জাপানি প্রকৌশল সংস্থা মিতসুবিশি হেভি ইন্ডাস্ট্রিজ (এমএইচআই) একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। কোম্পানিটির নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পটির কাজ ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই স্বয়ংক্রিয় পরিবহন ব্যবস্থাটি বিশ্বের বৃহত্তম বিমানবন্দর যাত্রী পরিবহন নেটওয়ার্ক হিসেবে স্বীকৃত হবে। এটি বিমানবন্দরের নয়টি স্টেশনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করবে, যার ফলে টার্মিনাল ভবন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে যাত্রীদের চলাচল আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে। এই ব্যবস্থায় মোট ১৬৫টি স্বয়ংক্রিয় যান এবং একটি অত্যাধুনিক সিগন্যালিং সিস্টেম ব্যবহার করা হবে। এমএইচআই এবং তাদের দুবাই-ভিত্তিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমএইচআই-এমইএসসি এই যানের নকশা, সরবরাহ, পরীক্ষা এবং সামগ্রিক সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের দায়িত্ব পালন করবে।
এই প্রকল্পের কাজ একটি কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, যেখানে ভারতীয় প্রকৌশল ও নির্মাণ সংস্থা লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এলঅ্যান্ডটি বিমানবন্দরের অন্যান্য সাবসিস্টেমের নকশা, সরবরাহ, পরীক্ষা এবং নির্মাণের কাজ পরিচালনা করবে। এই অটোমেটেড প্যাসেঞ্জার মুভারটি বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের গতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এটি টার্মিনালগুলোর মধ্যে যাতায়াতের সময় কমিয়ে আনবে এবং বিমানবন্দরের সামগ্রিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার যে মহাপরিকল্পনা দুবাই নিয়েছে, এটি তারই একটি অংশ। ২০৩২ সালের মধ্যে বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে বছরে ২৬ কোটি যাত্রী সেবা পাওয়ার সক্ষমতা থাকবে। বিমানবন্দরের উন্নয়নের অগ্রগতির সাথে সাথে এর যাত্রী ধারণক্ষমতা পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে। এই বিশাল অটোমেটেড পরিবহন নেটওয়ার্কটি বিমানবন্দরের দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এবং কোটি কোটি যাত্রীর যাতায়াত সহজ করতে একটি মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
সূত্র: গালফ টুডে































