চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে আজ রোববার বেলা ১১টায় দেশের প্রথম শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে নির্মিতব্য কনটেইনার টার্মিনালের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হবে। লালদিয়া প্রজেক্ট সাইটে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সেতু ও নৌ পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
২০২১ সালের জুন মাসে এই টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। ৫৫০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পণ্য পরিবহন খরচ এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে বন্দর সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল সক্রিয় রয়েছে। লালদিয়ার চরে নির্মিতব্য এই টার্মিনালটি হবে পঞ্চম, যা বছরে অতিরিক্ত ৮ লাখেরও বেশি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা যোগ করবে। প্রায় ৪৯.১৫ একর জমির ওপর বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের মধ্যে ৩২ একর মূল টার্মিনাল, ৭.১৫ একর কনটেইনার ইয়ার্ড এবং ১০ একর জায়গায় ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধা থাকবে। এছাড়া ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি এবং ১০ মিটার গভীরতার এই টার্মিনালে প্রায় ৬,০০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনারবাহী জাহাজ সরাসরি ভিড়তে পারবে, যা বর্তমান সক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
টার্মিনালটিতে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর জন্য সাতটি জাহাজ ক্রেন এবং ইয়ার্ডে ৩২টি বিদ্যুৎচালিত রাবার-চাকা ক্রেন ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে আধুনিক টার্মিনাল ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যা দেশের সামগ্রিক বন্দর সক্ষমতাকে এগিয়ে নেবে।
প্রকল্পটির সাথে যুক্ত ‘এপিএম টার্মিনালস’ বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে টার্মিনাল পরিচালনা করে থাকে এবং বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দক্ষ কনটেইনার বন্দরের ১০টিতেই তাদের কার্যক্রম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি লালদিয়াকে আধুনিক, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও কম কার্বন নিঃসরণকারী একটি মডেল টার্মিনাল হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় উপস্থাপন করতে চায়।






























