জার্মানির হোহেনফেলসে এক অন্ধকার ও বৃষ্টিস্নাত রাতে পোল্যান্ডের বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা একটি পরিত্যক্ত গির্জা সদৃশ ভবন থেকে বেরিয়ে জার্মান গ্রামাঞ্চলের গাছপালার আড়ালে অবস্থান নেন। এটি পোলিশ বিশেষ বাহিনীর একটি বিশেষ মহড়ার অংশ, যা কয়েক মাস আগে পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই মহড়ায় শত্রুর সীমানা অতিক্রম করা এবং গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন হামলার অনুকরণ করা হচ্ছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর গ্রিন বেরেটদের নকশা করা এই মহড়াটি মূলত ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার সংঘাতের বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে সাজানো। ন্যাটো জোটের কোনো মিত্র দেশ হিসেবে পোল্যান্ড প্রথমবারের মতো এমন প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছে। রাশিয়া ও ন্যাটোর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সামরিক মহড়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মহড়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন গ্রিন বেরেট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় পক্ষই যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে, তার সবকটিই এখানে প্রতিরূপ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
হোহেনফেলসে অবস্থিত জয়েন্ট মাল্টিন্যাশনাল রেডিনেস সেন্টারের প্রায় ১,১০০ বর্গমাইল বা ৩,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই মহড়া চলছে। পোলিশ বাহিনী মার্কিন বিমানবাহী পদাতিক বাহিনীর নজর এড়িয়ে জার্মান গ্রামাঞ্চলের প্রায় ৬০ মাইল বা ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে গ্রাফেনওয়ারের আরেকটি প্রশিক্ষণ এলাকায় পৌঁছাবে এবং সেখানে একটি সিমুলেটেড লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করবে। এই পথে স্থানীয় গ্রাম, সরকারি ক্যামেরা এবং জনবহুল এলাকা রয়েছে, যা তাদের লুকিয়ে চলাচলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন সেনাবাহিনীর গ্রিন বেরেটদের মতে, এই মহড়া বছরে কয়েকবার পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ন্যাটোর ৩২টি দেশের অধিকাংশ সদস্যই এতে আগ্রহ প্রকাশ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মহড়া চলাকালীন সেনারা ধরা পড়লে বা নিহত হওয়ার পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন। মার্কিন বাহিনীও ড্রোন ব্যবহার করে পোলিশ সেনাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এর আগে মহড়ার বিভিন্ন পর্যায়ে মার্কিন সেনাবাহিনী শতাধিক ড্রোন ব্যবহার করেছে।
সম্প্রতি ইউক্রেনের ড্রোন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্বজুড়ে সামরিক বাহিনীর আগ্রহ বেড়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুদ্ধকালীন সময়ে ড্রোন হামলা মোকাবিলায় তার দেশ মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পাঁচটি দেশকে সহায়তা করছে। এদিকে, ইউরোপের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে রহস্যময় ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরে ড্রোন ব্যবহারের গুরুত্ব নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে; সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনী ড্রোন যুদ্ধের বিশেষজ্ঞ একটি ইউনিট বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপে মার্কিন সেনা সংখ্যা কমানোর বিষয়ে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে ন্যাটো মিত্রদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন।






























