ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাতে ঘটা এই ঘটনায় উভয় পক্ষের ৩০-৩৫ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী সস্ত্রীক ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফরে এলে তার স্ত্রী ও পুনাক উপদেষ্টা সিদরাতুল মুনতাহার আগমন উপলক্ষে জেলা পুলিশ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। জাসাসের সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানটি চলাকালে রাত সাড়ে ১১টার দিকে পার্শ্ববর্তী দারুল আরকাম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উচ্চস্বরে গান-বাজনা বন্ধের অনুরোধ নিয়ে সেখানে যায়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরদিন বুধবার তাদের পরীক্ষা থাকায় উচ্চস্বরে গান-বাজনায় তাদের সমস্যা হচ্ছিল। প্রথমে তারা শব্দ কমানোর অনুরোধ করলেও পরে তা আবারও বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে পুলিশ ও ছাত্রদের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করে চেয়ার ভাঙচুর করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। মাদ্রাসাছাত্ররাও পাল্টা হামলা চালায়। এতে পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীসহ ৩০-৩৫ জন আহত হন, যাদের মধ্যে ৩১ জন জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ঘটনার সময় ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
সংঘর্ষের পর মাদ্রাসাছাত্ররা হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাত ২টার দিকে পুলিশ সুপার শাহ মো. আবদুর রউফ, দুইজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম দারুল আরকাম মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষকদের সাথে আলোচনায় বসেন। বৈঠকে কাওমি ছাত্রঐক্য পরিষদের ৫ দফা দাবি মেনে নেওয়ার পর ভোর ৪টায় পরিস্থিতি শান্ত হয়।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেনে নেওয়া দাবির মধ্যে রয়েছে পুলিশ লাইন্সে ভবিষ্যতে আর কোনো কনসার্ট না করা, আহত ছাত্রদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে দোষী পুলিশ সদস্যদের বিচার করা। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিনজন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (প্রশাসন ও অর্থ) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ঘটনার পর থেকে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের ফোন ধরেননি এবং অফিসেও তাদের পাওয়া যায়নি।





























