লর্ডস টেস্টের দ্বিতীয় দিনে দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। স্বাগতিকদের করা ২৯০ রানের জবাবে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে যায়। দিনশেষে ইংল্যান্ড তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেট হারিয়ে ৮১ রান সংগ্রহ করেছে, ফলে এখন তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ২৬১ রানে। পিচটি ব্যাটারদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও ইংল্যান্ডের বোলাররা শুরু থেকেই তাদের আধিপত্য বজায় রাখেন।
দিনের শুরুতে ইংল্যান্ডের শেষ জুটির ব্যাটার গাস অ্যাটকিনসন এবং জশ টং পাকিস্তানের বোলারদের বেশ কিছুক্ষণ আটকে রাখেন। তারা ৪৭ রানের জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করেন। শেষ পর্যন্ত স্পিনার আলী ওসমানের বলে অ্যাটকিনসন ক্যাচ আউট হলে ইংল্যান্ডের ইনিংস শেষ হয় ২৯০ রানে। ১১ নম্বর ব্যাটার হিসেবে নেমে জশ টং চারটি বাউন্ডারির সাহায্যে অপরাজিত ৩০ রান করেন, যা স্বাগতিকদের শুরুতেই প্রয়োজনীয় গতি দেয়।
পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ এদিন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। আজান আওয়াইস এবং সৌদ শাকিল ছাড়া আর কেউই দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। আওয়াইস এবং শাকিলের মধ্যে ৩৩ রানের একটি জুটি এবং পরবর্তীতে আওয়াইস ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মধ্যে ২৮ রানের একটি অংশীদারিত্ব ছাড়া পাকিস্তানের ইনিংসের বাকি সময়টা ছিল কেবলই ধসের গল্প।
ইংল্যান্ডের পেসারদের তোপে শুরু থেকেই পাকিস্তান চাপে ছিল। জোফরা আর্চার চতুর্থ ওভারেই শান মাসুদকে ক্যাচ আউট করে প্রথম আঘাত হানেন এবং ইনিংসের শেষ দিকে মোহাম্মদ আব্বাসকে বোল্ড করে নিজের উইকেট সংখ্যা পূর্ণ করেন। ওলি রবিনসন ১৩ ওভার বল করে মাত্র কয়েকটি রান দিয়ে পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে ধস নামান এবং ৪ উইকেট তুলে নেন। আওয়াইস প্রায় চার ঘণ্টা ক্রিজে থেকে লড়াই করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত এমিলিও গায়ের হাতে ধরা পড়েন; তিনি ৪৬ রান করে আউট হন।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮০ রানের লিড নিয়ে ব্যাট করতে নামা ইংল্যান্ডের শুরুটা ভালো হয়নি। খুররম শাহজাদের বোলিং তোপে বেন ডাকেট এবং জর্ডান কক্স দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। জো রুট কিছুটা থিতু হওয়ার চেষ্টা করলেও মোহাম্মদ আলীর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন। তবে দিনের বাকি সময়ে এমিলিও গায়ে এবং হ্যারি ব্রুক আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি। তৃতীয় দিনে ইংল্যান্ড সাত উইকেট হাতে নিয়ে তাদের লিড আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।





























