আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শুরু করেছে বিএনপি। দলটির হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার প্রতিটি পদে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হবে। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা, সততা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দলের প্রতি অনুগত এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখা নেতাদেরও বিশেষ মূল্যায়ন করা হবে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, তৃণমূলের ইউনিটগুলো স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। এক্ষেত্রে জেলা কমিটির সহযোগিতা নেয়া হবে। দলের সিনিয়র নেতারা ইতিমধ্যে জেলা, উপজেলা ও মহানগর নেতাদের দায়িত্ব দিয়েছেন যেন স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। যদি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে দলটির পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে।
দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি গুলশানে তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাবনা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়া গত ৯ই মে খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে নিরপেক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক করার আহ্বান জানান। দলের নেতাকর্মীদের জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
বর্তমানে সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দায়িত্বরত প্রশাসকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী করার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা তাদের কাজের সফলতার ওপর নির্ভর করবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত এবং চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে ত্যাগী ও জনপ্রিয় নেতাদেরই মনোনয়ন দেয়া হবে। নির্বাচন কমিশন আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তফসিল ঘোষণার পর এই প্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি।































