প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন করে নির্বাহী আদেশ ঘোষণা করেছেন। এর আগে তার নেওয়া একই ধরনের উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্টে অসাংবিধানিক বলে খারিজ হয়ে গিয়েছিল। ৬ আগস্ট হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আগের রায়ের প্রেক্ষিতে তারা পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন করে এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
নতুন এই আদেশে মূলত সেইসব শিশুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে যারা সুপ্রিম কোর্টের ঘোষিত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের নিয়মের আওতায় পড়ে না। ট্রাম্পের প্রথম আদেশে বলা হয়েছে, যেসব শিশুর বাবা-মায়ের কেউই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন, তারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হবেন না। এর মধ্যে বিদেশি শত্রু বা বিদেশি সরকারি কর্মকর্তার সন্তানরাও অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া যেসব বাবা-মা নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ‘বাণিজ্যিক লেনদেনের’ মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের জন্য মা-কে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসেন, তাদের সন্তানদেরও নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না।
দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা জন্ম পর্যটনের উদ্দেশ্যে বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বার্থ ট্যুরিজম বলতে বোঝায়, গর্ভবতী বিদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে সন্তান জন্ম দেন যাতে শিশুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পায়। গবেষকদের মতে, প্রতি বছর এমন শিশুর সংখ্যা ২,০০০ থেকে ৩৯,০০০ হতে পারে, যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন এই সংখ্যা কয়েক লাখ।
গত বছরের ৩০ জুন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের একটি নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছিল, যা বৈধ স্ট্যাটাস নেই এমন বাবা-মায়ের সন্তানদের নাগরিকত্ব পাওয়ার পথ বন্ধ করেছিল। সুপ্রিম কোর্ট তখন জানিয়েছিল, এই আদেশ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর লঙ্ঘন। ওই সংশোধনীর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণকারী বা স্বাভাবিকীকৃত সকল ব্যক্তিই দেশটির নাগরিক।
নতুন এই আদেশের প্রতিক্রিয়ায় এসিএলইউ (ACLU) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট আগেই এই বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছে যে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত। তারা সতর্ক করে বলেছে, সংবিধানের এই অধিকার খর্ব করার যেকোনো প্রচেষ্টার পরিণতি আগেরবারের মতোই হবে। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ স্টিফেন মিলার অবশ্য ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্পের এই কঠোর অভিবাসন নীতি এবং গণ-নির্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার এই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের ৬-৩ রায়ের প্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস লিখেছিলেন, সংবিধানের প্রণেতারা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং বর্তমান আদালত সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে।



























