গাজায় হাজার হাজার গুরুতর অসুস্থ ও আহত রোগী এখনো জরুরি চিকিৎসার জন্য অবরুদ্ধ উপত্যকাটি থেকে বাইরে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়িসুস। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক জানান, গত সপ্তাহে রাফাহ এবং কেরেম শালোম সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে ১৯টি শিশুসহ ১০৬ জন রোগীকে সরিয়ে নেওয়ার কাজে সহায়তা করেছে সংস্থাটি। এই রোগীদের সাথে সহায়তাকারী হিসেবে আরও ১৩২ জন ব্যক্তি ছিলেন।
তেদরোস আধানোম গেব্রেয়িসুস জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজা থেকে ১৩,২৩৭ জন রোগীকে চিকিৎসার জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬,২৭৬ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া রোগীদের সহায়তাকারী হিসেবে আরও ১৬,৪০৬ জন তাদের সাথে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন এমন মানুষদের বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেয় এই চিকিৎসা স্থানান্তর।" রোগীদের সময়মতো সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে একাধিক ক্রসিং রুটের মাধ্যমে নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার কারণে লাখ লাখ বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় নতুন করে ১,৩০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর থেকে এ পর্যন্ত ৭৩,৪০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১,৭৪,৪০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন, যাদের বড় অংশই বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি হামলার শিকার।





























