নেপাল এবং চীন সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে পৌঁছেছে। উদ্ধারকর্মীরা কাদামাখা জীবিতদের উদ্ধার করছেন এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আটকে পড়া দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নেপালের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি শুক্রবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এখনো ১,৯২৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন, তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি এই সংখ্যা ১২,০০০ পর্যন্ত হতে পারে। এদিকে চীনের সরকারি গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তাদের সীমান্তে ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা বেড়ে পাঁচজনে দাঁড়িয়েছে।
বন্যা ও ভূমিধসের ফলে প্রায় ৯০,০০০ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে রেড ক্রস জানিয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের উচ্চতায় অবস্থিত একটি হিমবাহের নিচের পাথুরে অংশ ধসে পড়ার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। এই ধস ৫.২ মাত্রার ভূকম্পন সৃষ্টি করেছিল, যা পরবর্তীতে নদীগুলোতে পানির তীব্র স্রোত এবং ভূমিধসের কারণ হয়। নেপালের পুলিশ এবং নিরাপত্তা কর্মীরা নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে, কারণ সীমান্তের তিব্বত অংশে একটি বাঁধ উপচে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।
উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩,৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৩,০০০-এর বেশি মানুষকে হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়েছে। রাসুয়া এলাকার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেপালি সেনাবাহিনী কাজ করছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সুড়ঙ্গের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ কাদায় ঢাকা পড়ায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ৯০ জন মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। ক্যাথলিক রিলিফ সার্ভিসেস এবং কারিটাশ নেপাল যৌথভাবে দুর্গত এলাকায় খাদ্য সরবরাহসহ ত্রাণ সহায়তা পাঠাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিপর্যয়কে ভয়াবহ উল্লেখ করে নেপালি নেতাদের সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ইশা ফাউন্ডেশনের অধীনে তীর্থযাত্রায় অংশ নেওয়া প্রায় ৮০ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছে, যার মধ্যে ২২ জন মার্কিন নাগরিক। এছাড়া টিমুলে গ্রামের কাস্টমস কর্মকর্তা কারবির গায়ের জানিয়েছেন, তিনি যখন অফিসে কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎ মাটি কেঁপে ওঠে এবং চারপাশের এলাকা সুনামির মতো ধ্বংস হয়ে যায়। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, হিমালয় অঞ্চলে দ্রুত তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ ও পর্বতগাত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে, যা ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।































